খুরুশকুলে নিহত শিশু উর্মির পরিবারে ইউএনও’র মানবিক সহায়তা
অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসায় ভাসছেন উপজেলা প্রশাসন
পাহাড়কাটা, বালি উত্তোলন ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের আশ্বাস
রিয়াজ উদ্দিন:
কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের পূর্ব হামজার ডেইল কদমতলি এলাকায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু উর্মি আক্তারের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মর্মান্তিক এ ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
জানা গেছে, নিহত উর্মি আক্তার একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তার মা স্থানীয়ভাবে ছোট একটি চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরিবারের এমন কঠিন সময়ে উপজেলা প্রশাসনের মানবিক সহায়তায় এলাকাবাসীর মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, প্রশাসনের এমন সহমর্মিতা অসহায় পরিবারটির কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করবে।
উল্লেখ্য, প্রায় ছয়দিন নিখোঁজ থাকার পর পূর্ব হামজার ডেইল কদমতলি এলাকার একটি স্থান থেকে ১০ বছর বয়সী শিশু উর্মি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর দেখা যায়, শিশুটির দুই হাত ও দুই পা বিচ্ছিন্ন ছিল। ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত শরীরের বিচ্ছিন্ন অঙ্গগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক, আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নিহত উর্মির পিতা সন্তানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে যারা এভাবে হত্যা করেছে তাদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আমি আমার সন্তানের হত্যার বিচার চাই।” তার আহাজারি ও কান্নায় এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এসময় খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বলেন, “খুরুশকুল ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। গেল কিছুদিন আগেও নয়ন সাধু নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে রশিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। একের পর এক এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
পরিদর্শনকালে ইউএনও খুরুশকুল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার সার্বিক পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তিনি নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় পাহাড়কাটা, অবৈধ বালি উত্তোলন, ইয়াবা বিক্রয় এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন অভিযোগ তার সামনে উঠে আসে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের কিছু এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন এবং মাদক ব্যবসার বিস্তার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ইয়াবা কারবারকে কেন্দ্র করে যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এসব বিষয় স্বচক্ষে পরিদর্শনের পর ইউএনও সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, বিষয়গুলো জেলা প্রশাসককে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের এমন সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত থাকলে খুরুশকুল ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের নানা অনিয়ম ও অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, শিশু উর্মি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজ অঙ্গগুলো উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।












